যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ফিনটেক খাতে বিনিয়োগের আহ্বান
বাংলাদেশের ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলিজি (ফিনটেক) খাতে বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। মঙ্গলবার (২ জুলাই) ঢাকায় ওয়েস্টিন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ড্রাইভিং ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ফর স্মার্ট বাংলদেশ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের কর্মাসিয়াল কাউন্সিলর (ফরেন কর্মাসিয়াল সার্ভিন) জন ফে, সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, অ্যামচ্যামের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, আমচামের নির্বাহী পরিচালক, দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী সংস্থার নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের সহযোগী হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ও ব্যবসায়িক পরিবেশ ভালো। এ জন্য বাংলাদেশে ব্যবসা করা সহজ।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি ও বৈদেশিক বিনিয়োগের ও উৎস্য যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কোম্পানি মাস্টারকার্ড এবং ভিসা বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ক্যাশলেস সোসাইটি তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

ওয়াসিকা আয়শা খান আরও বলেন, ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। ক্যাশলেস লেনদেন ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ এবং ২০৩১ সালের শতভাগ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল ২০২১-২০২৬ বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এক ব্যবসায়ীর প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের সুদহার বাজারভিত্তিক করা হচ্ছে এবং মুদ্রা বিনিময় হার পদ্ধতিতেও পরিবর্তনা আনা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে এর ইতিবাচক ফল পেতে শুরু করেছি। জুন মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদহার বাজারভিত্তিক করা হচ্ছে এবং মুদ্রা বিনিময় হার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে এর ইতিবাচক ফল পেতে শুরু করেছি। জুন মাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে। সুদহার যখন নয়-ছয় ছিল সে সময় আমরা খেলাপি হওয়ার মতো অনেক ঘটনা দেখেছি।
ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সরবরাহে বাজারভিত্তিক সুদহার কেমন হয়, সেটা দেখার জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অর্থপ্রতিমন্ত্রীর হাতে একটা স্বারক পুস্তক তুলে দেন অ্যামচেম সভাপতি। এসময় মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মাদ কামাল, ভিসা’র বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ, ওরাকল বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার রুবাবা দৌলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







